এ আপনাকে স্বাগতম। বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় পেশা।ইতিমধ্যে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সফল হয়েছেন।অনেকে সফল হবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাকিরা কেউ অফলাইনেই সফল আবার কেউ কেউ অফলাইন,অনলাইন দুটোতেই ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ভুগছেন।

আজকের পোস্টটি মূলত সবার জন্য।একটু কষ্ট করে ধৈর্য ধরে পুরোটা পড়েন,আশা করছি আপনার সময় বৃথা যাবে না।আপনি অনলাইনে কিছু একটা করতে চাচ্ছেন ।অথবা ধরে নিলাম আপনি ইউটিউবে অনলাইনে লাখ লাখ টাকা ইনকামের ভিডিও দেখে যতটা না ইন্সপায়ার হচ্ছেন তার থেকে বেশি হতাশ হয়ে পড়েছেন।অথবা ধরে নিলাম আপনি অনলাইন সম্পর্কে কিছুটা জানেন এবং বোঝেন কিন্তু ভাল কিছু করতে পারছেন না।


আপনি যদি উপরে বর্নিত ক্যাটেগরির মধ্যে পড়েন তবে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে আমার মতো সময় নষ্ট করবেন না।আপনি যতদিন এরকম করবেন ঠিক ততোদিন পিছিয়ে পড়বেন।সময়ের মূল্যায়ন করুন সময় আপনাকে মূল্যায়ন করবে।কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক,




ফ্রিলান্সিং কি?
ফ্রিলান্সিং হচ্ছে অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন । এখন প্রশ্ন হচ্ছে অনলাইনে কি কাজ করবেন ? ‍আপনি যা পারেন তাই করবেন । আপনি ‍যদি ডিজাইন করতে পারেন তাহলে ডিজাইন করতে পারেন, আর্র্টিকাল লেখতে পারেন, বিভিন্ন ধরনের সার্ভে করতে পারেন, ডাটা এনট্রি করতে পারেন, মোট কথা আপনি যা পারেন তা করেই অনলাইনে অর্থ উপার্জন করতে পারেন । 

আপনি যদি কিছু না ও করতে পারেন, তাহলেও আপনি কেবল মুভি দেখে অর্থ উপার্জন করতে পারেন । এবার আপনার প্রশ্ন জাগতে পারে কে দেবে আপনাকে কাজ ? পশ্চিমা উন্নত দেশ গুলোতে যেখানে শ্রমের পারিশ্রমিক অনেক বেশি, ‍সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিবর্গ এত বেশি টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে আগ্রহি হন না । তখন তারা চান অনুন্নত দেশের দক্ষ লোকজন দিয়ে কম পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তাদের এই কাজ গুলো করিয়ে নিতে । আর ‍আমাদের দেশের মত অনুন্নত দেশের দক্ষ লোকজন কম টাকার বিনিময়ে তাদের এই কাজ গুলো করে দেয় । আর কাজ প্রদান করা থেকে শুরু করে কাজ সম্পাদন, কাজ হস্তান্তর, টাকা প্রদান এই সমস্ত কিছুই হয়ে থাকে অনলাইনে । আর এভাবে অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করাকে বলা হয় ফ্রিলান্সিং ।

ফ্রিলান্সিং কেন করবেন?
আমার মতে, একজন স্টুডেন্ট এর জন্য ফ্রিলান্সিং এর চেয়ে ভাল কোন বাড়তি আয়ের রাস্তা হতেই পারেনা। এইটা এই কারণে বলছি যেঃ
1.       এতে তেমন কোন আর্থিক পুঁজির দরকার নেই, শুধু ল্যাপটপ / কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হয়।

2.     এর জন্য কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই, পড়াশুনার ব্যস্ততার সাথে সংগতি রেখে ফ্রিলান্সিং এর ব্যাস্ততা বাড়ানো / কমানো সম্ভব।

3.     ফ্রিলান্সিং করতে গেলে নির্দিষ্ট একটি কাজের জন্য অনেকগুলো বিষয়ের উপর চর্চার দরকার হয়ে থাকে, যা আপনার সার্বিক জ্ঞানের পরিধিকে অনেক বিস্তৃত করবে।

4.     ফ্রিলান্সিং এমন একটি পেশা, যা চাইলেই আপনি পার্ট টাইম থেকে ফুল টাইম হিসেবে শুরু করতে পারবেন।

5.     একজন ফ্রিলান্সার সর্বজন স্বীকৃত একজন আন্তর্জাতিক কর্মী, কারণ তিনি আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই তার রুটি-রুযী নিশ্চিত করে থাকেন।

6.     ছাত্রাবস্থায় একজন ফ্রিলান্সার মাসে ১০,০০০-২৫,০০০ টাকা অনায়াসেই উপার্জন করতে পারে (যদি তিনি কাজে দক্ষ হয়ে থাকেন)। আর যদি এই পেশাকে ফুল টাইম হিসেবে নেয়া যায় তবে মাসে ৫০,০০০- ১০০,০০০ টাকাও উপার্জন খুব কঠিন কিছুনা।

শেষ কথায় বলব, একজন সফল ফ্রিলান্সার হতে গেলে হয়ত দীর্ঘ সময় অতিক্রম করতে হবে, কিন্তু মাসে ১০,০০০ টাকার লেভেলে উঠার জন্য ২-৩ মাস সময়ই যথেষ্ট। এখন আপনার চাহিদা 

ফ্রিল্যান্সিং কেন সহজ ?
ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয়তা পাওয়ার একটি মূল কারন হচ্ছে ঘরে বসে আয় করা যায়। আপনি ঘরে বসে পৃথিবীর যেকোন জায়গার কাজ করতে পারবেন। আপনার প্রয়োজন নেই কোন অফিস। একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই খুব সহজেই ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। আর একটি কারন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করতে আপনার কোন মামা-চাচার সুপারিশ প্রয়োজন হবে না।আপনার যোগ্যতাই সবচেয়ে বড় ব্যপার।

আপনি যদি নিজের যোগ্যতা প্রমান করতে পারেন তবে আর কিছুর দরকার নেই ।কাজ পাবেন আপনার যোগ্যতার ভিত্তিতে কোন সুপারিশ বা ঘুষের বিনিময়ে নয়। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আপনি অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের জন্য মাসে কয়েকলাক্ষ টাকা উপার্জন করা কোন ব্যাপারই না। আপনিত আর টাকা উপার্জন করবেন না, উপার্জন করবেন ডলার। এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে যারা ঘন্টায় ২০০-২৫০ ডলার উপার্জন করে। এবার একটা ক্যালকুলেটর নিন, মোবাইল হলেও চলবে ।

মনে করেন দিনে ৮ ঘন্টা কাজ করলে ১ ডলার সমান যদি ৮০ টাকা হয় মাসে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন । দ্রুত এই সহজ হিসাবটা করে ফেলুন। ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের কোন অভাব নেই । মার্কেট প্লেসে দেখবেন মিনিটে শত শত কাজ টিউন হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এর । এর কাজের পরিধিও বাড়ছে। বাংলাদেশের অনেকই আছে যারা কাজের কিছু না জেনেই কাজে এপ্লাই করে, কাজ যখন পায় তখন ফেসবুকে টিউন দেয়, ভাই কাজটা কিভাবে করব? চিন্তা করেন অবস্থা। শুধু কাজ আর কাজ।

ফ্রিল্যান্সিং এ নির্দিষ্ট কোন অফিস টাইম নাই । প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা অফিস করতে হবে এমন কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই।আপনার যখন খুশি যেমন করে খুশি কাজ করবেন। ভাবুনত এমন একটি পেশা, আপনি যেখানে খুশি যেমন খুশি তেমন ভাবে কাজ করছেন। অনেক অনেক টাকা ইনকাম করছেন। পরিবারের সাথে সময় দিতে পারছেন।যেখানে  খুশি বেড়াতে যেতে পারছেন।যা খুশি করতে পারছেন। আর এইসব কারনেই ফ্রিল্যান্সিং এত জনপ্রিয় ।

ফ্রীলেঞ্চিং কাদের জন্য উপযোগী?
  • ছাত্রদের জন্য, তবে লেখাপড়ার ক্ষতি হয় এমন কাজ কখনো করবেন না। লেখাপড়া এবং আপনার নিত্য প্রয়োজনীয় সব কাজ ঠিক রেখে ফ্রীলেঞ্চিং করবেন। তবে (উপরের ২ নং পয়েন্ট পড়ুন)।

  • বেকারদের জন্য, পড়াশুনা শেষ করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন চাকরির খুজে। যে কয়দিন চাকরি খুজে বায় করবেন সেই কয়দিনে একটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিন। কথা দিচ্ছি আপনাকে চাকরি খুজতে হবে না, একসময় চাকরি আপনাকে খুজবে। (দরকার হলে আপনার বাসায় গিয়ে হাজির হবে)

  • গৃহিণীদের জন্য, আপনি কি সারাদিনে রান্নাবান্না ছাড়া বাকি সময় টিভি (ইন্ডিয়ান সিরিয়াল) দেখে ব্যয় করেন। ওইসব বাদ দিয়ে আজই শুরু করে দিন ফ্রীলেঞ্চিং, আপনার নিজের একটি পরিচয় তৈরি করুন।

  • প্রতিবন্ধীদের জন্য (চলাচলে অক্ষম), আপনার উপরের সবগুলো সাধারন যোগ্যতা আছে কিন্তু শারীরিক প্রতিকুলতার কারনে চাকরি/ বাবসা করতে পারছেন না। নো টেনশন, যেকোনো একটি বিষয়ের কাজে নিজেকে দক্ষ করে তুলুন এবং শুরু করে দিন ফ্রীলেঞ্চিং। দেখবেন অনেকে ৯টা-৫টা চাকরি করেও আপনার সমান আয় করতে পারবে না।

  • অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী দের জন্য, আপনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহন করেছেন কিন্তু এখনও পুরোপুরি কর্মঠ এবং চাইছেন নিজের/পরিবারের জন্য কিছু আয় করে সাহায্য করতে। তাহলে ফ্রীলেঞ্চিং আপনারই জন্য।
ফ্রিলান্সার হতে গেলে কি কি লাগবে?
নতুনদের খুব কমন একটি প্রশ্ন । আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আশা করি এই পোস্টটি আপনার কাজে লাগবে । বর্তমানের হট টপিক হলো ফ্রিলান্সিং বা আউটসোর্সিং। এই ফ্রিলান্সিং নিয়ে চলছে রমরমা ব্যাবসা । আপনি যদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আপনি বাংলাদেশের আনাচে কানাচের এত এত আইটি ফার্ম এবং ইন্সটিটিউটের ভিন্ন ভিন্ন জাকজমক টাইটেল দেখে থমকে যেতে পারেন । আসলেই কি এত এত টাকা ইন্টারনেট থেকে আয় করা সম্ভব ? হা আপনি যদি যোগ্য হয়ে থাকেন তাহলে আনলিমিটেড একটা আরনিং সোর্স আপনার হতে পারে । 

কিন্তু ভুলেও তাদের রমরমা টাইটেলের ফাদে পা দিবেন না। কেও যদি বলে যে আপনাকে ৩ মাস বা ৪ মাস পরে লাখ লাখ টাকা ইঙ্কাম করিয়ে দিবে তাহলে মনে করবেন কোন ঘাপলা আছে । আর কি বলবো দুঃখের কথা ! বর্তমানে ত ১ সপ্তাহে ও ফ্রিলান্সার বানানো হয় । আরে ভাই থামেন ! ফ্রিলান্সিং হাতের মুয়া না যে নিলেন আর মুখে দিলেন । আমি এটাই বুঝাতে চাচ্ছি যে , ফ্রিলান্সিং হল সাধনার ব্যাপার ।ভালো কোন কিছু পেতে হলে অবস্যই অনেক সাধনা করতে হয় । ফ্রিলান্সিংয়ের ক্ষেত্রে ও তাই । যারা নতুন আছেন তাদের খুব কমন একটা প্রশ্ন হল ভাই আমি কি ফ্রিলান্সিং করতে পারবো বা আমাকে দিয়ে কি হবে ?যদি নিচের কথা গুলো আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় তাহলে আমি বলব আপনাকে ফ্রিলান্সিং য়ে স্বাগতম।

ব্যাসিক আসবাবপত্র আরও অন্যান্যঃ
এক জন ফ্রিলান্সার হতে গেলে আপনার প্রথমত ব্যাসিক কিছু জিনিস লাগবেই, তার মধ্যঃ
1.       পর্যাপ্ত সময় প্র্যাকটিসের জন্য
2.     একটা ভাল কনফিগারেশনের কম্পিউটার
3.     সব সময় সচল ইন্টারনেট কানেকশন
4.     কিছু ত্যাগের অভ্যাস
5.     যদি সিগারেটের অভ্যাস থাকে তাহলে ১ প্যাকেট প্রতি রাতে (মজা করলাম)
6.     অতিরিক্ত প্ররিশ্রমের অভ্যাস
7.     ইংলিশে ভালো স্কিল
8.     মানুষকে পটানোর ক্ষমতা

পর্যাপ্ত প্র্যাকটিসের অভ্যাস থাকতে হবে, বাহিরের জগতকে ভুলে যান , সুসময়ের বন্ধু সবসময় পাবেন কিন্তু আপনার বিপদে কেউ থাকবে না এটাই তো হয়, তাই যতটুকু দেখে শিখবেন তার চেয়ে হাজারগুন বেশি প্র্যাকটিস করুন হয়ে জাবেন একটা সময়।।

ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেয়া একটু কঠিন হবে যাদের জন্যে?
অনেক মনে করেন ফ্রীল্যানসিং করা খুব সহজ। আসলে আপনি যদি সঠিক কাজটি না জানেন বা ক্লাইন্ট যেভাবে কাজ করতে চায় বা আপনি সমস্যা সমাধান দিতে না পারেন তাহলে এই সেক্টর আপনার জন্য না। নিচে জেনে নেই করা না আসলে ভালো; 
  • -যারা কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যায়ন করেন।
  • -যারা সহজে আয়ের পথ খুঁজছেন।
  • -যারা মনে করছেন শেখা শুরুর ১ মাসের মধ্যেই কারিকারি টাকা আয় করবেন।
  • -যারা ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টারের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে এই পেশার জন্য আগ্রহী হয়েছন।
  • -যারা ফ্রিল্যান্সিং কে খুব সহজ ভাবেন।
  • -যারা চাকরির বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে ভাবছেন।
কিভাবে ফ্রীল্যানসিং শুরু করা যায়?
আগে জেনে নিন আপনি কোন ফিল্ড এ কাজ করতে পারবেন তার জন্য আপনি মার্কেটপ্লেসে যেয়ে কাজের ফিল্ড গুলা দেখে নিন ও বুঝার চেষ্টা করুন কোন ফিল্ডের সাথে আপনার স্কিল খাপ খায়। চলুন নিচের বিস্তারিত আলোচনা থেকে জেনে নেয়া যাক;

১) যেটা আপনি ভালো জানেন ঠিক ঐটা দিয়েই শুরু করেন :
মার্কেটপ্লেসে যেয়ে কাজের ফিল্ড গুলা দেখে নিন তারপর যেসকল জব পোস্ট করা আছে ঐগুলা ঘেটে দেখুন। আপনার ইন্টারেস্ট, শিক্ষাগতযোগ্যতা, দক্ষতা অনুযায়ী কোন ফিল্ডে কাজ করতে পারবেন তা দেখে নিন।

২) দক্ষতা বৃদ্ধি করুন:
সব মিলিয়ে যদি আপনার কাজের দক্ষতা কম থাকে তবে অবশ্যই আপনার স্কিল উন্নয়ন ঘটান। এর জন্য আপনি আপনার কাজের রিলেটেড রিসৌর্স নিয়ে অনলাইন এ পড়াশুনা শুরু করে দেন। পরিচিত কেউ থাকলে পরামশ নিন। কাজ রিলেটেড ফেইসবুক গ্রুপ গুলাতে প্রশ্নের মাধ্যমেও বিভিন্ন কিছু শিখতে পারেন।

3) আপনার নিজের সার্ভিস প্রমোট করুন :
কাজের দক্ষতা তো বাড়ালেন এখন আপনি কিভাবে আপনার সার্ভিস সেল করতে পারেন? কয়েক ভাবেই আপনি অনলাইন ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন। তার মধ্যে ক্লাইন্ট এর কাজ করাটা অনেক বেশি পরিচিত।তাই আজ আমি এখন মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করবো। এক এক করে সব পপুলার মারকেতপ্লেস কভার করার চেষ্টা করবো। ইন্টারনেটে অনেকগুলো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস দেয় যাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। এগুলো থেকে যেকোন একটিতে রেজিস্ট্রিশনের মাধ্যমে আপনি শুরু করতে পারেন। 

এসব ওয়েবসাইটে যারা কাজ জমা দেয় তাদেরকে বলা হয় Buyer বা Client এবং যারা এই কাজগুলো সম্পন্ন করে তাদেরকে বলা হয় freelancer বা Service Provider. একটি কাজের জন্য অসংখ্য ফ্রিল্যান্সরা Bid বা আবেদন করে এবং ওই কাজটি কত টাকায় সম্পন্ন করতে পারবে তা উল্লেখ করে। এদের মধ্য থেকে ক্লায়েন্ট যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচন করতে পারে।

সাধারণত পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা, টাকার পরিমাণ এবং বিড করার সময় ফ্রিল্যান্সরের মন্তব্য ফ্রিল্যান্সর নির্বাচন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফ্রিল্যান্সর নির্বাচন করার পর ক্লায়েন্ট কাজের সম্পূর্ণ টাকা ওই সাইটগুলোতে জমা করে দেয়। এর মাধ্যমে কাজ শেষ হবার পর সাথে সাথে টাকা পাবার নিশ্চয়তা থাকে। পুরো সার্ভিসের জন্য ফ্রিল্যান্সরকে কাজের একটা নির্দিষ্ট অংশ ওই সাইটকে ফি বা কমিশন হিসেবে দিতে হয়। এই পরিমাণ ওয়েবসাইট এবং সার্ভিসভেদে ভিন্ন ভিন্ন (১০% থেকে ২০%)। কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট হচ্ছে:

ফ্রিল্যান্সার www.freelancer.com

www.freelancer.com ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য ভাল একটি মার্কেটপ্লেস । অনেক বাংলাদেশী ফ্রীল্যান্সাররা এখানে দীর্ঘদিন থেকে সফলতার সাথে কাজ করছে। এই মার্কেটপ্লেসটি বাংলাদেশেও তাদের কার্যক্রম প্রসারের অংশ হিসেবে www.freelancer.com.bd চালু করে। এখানে ফিল্যান্সিং করার পাশাপাশি বিভিন্ন কন্টেস্টে অনংগ্রহন করেও টাকা উপার্জন করা যায়। ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশী ফ্রীল্যান্সার বিভিন্ন কন্টেস্টে বিজয়ী হয়ে ভাল মাানের প্রাইজমানি লাভ করেছে।


আপওয়ার্ক www.upwork.com

www.upwork.com ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস । ২০০৩ সালে চালু হওয়া এই ফ্রীল্যান্স মার্কেটপ্লেসটি এতদিন পর্যন্ত ওডেস্ক Odesk.com নামে পরিচিত ছিল। ২০০৫ সালে অন্য অরেকটি জনপ্রিয় ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ইল্যান্স Elance.com এর সাথে একত্রিত হয়ে আপওয়ার্ক নাম ধারণ করে। এখানে একজন ফ্রিল্যান্সার নির্ধারিত মূল্যে বা ঘন্টা হিসেবে করতে পারে। ক্লায়েন্ট আপনাকে সম্পূর্ণ প্রজেক্টের জন্য বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস এর জন্য) নিয়োগ করতে পারে। 

রেজিষ্ট্রেশন করার সময় প্রতি ঘন্টায় আপনার কাজের মূল্য উল্লেখ করে দিতে হবে। কাজ শেষে আপনি যত ঘন্টা কাজ করেছেন ঠিক ততটুকু পরিমাণ টাকা ক্লায়েন্ট আপনাকে প্রদান করবে। কাজ করার মূহুর্তে আপনার ব্যয়কৃত সময় নির্ধারণ করার জন্য আপনাকে একটি সফ্টওয়্যার চালু রাখতে হবে, যা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার ডেস্কটপের স্ক্রিসশট এবং অন্যান্য তথ্য ক্লায়েন্টের কাছে পাঠাবে। ফলে ওই সময় আপনি কাজ করছেন কিনা ক্লায়েন্ট সহজেই নির্ধারণ করতে পারবে। 

তবে অন্য সাইটগুলোর মত এখানেও অনেক কাজ পাওয়া যায় যেখানে সম্পূর্ণ প্রজেক্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়। এই সাইটে প্রতি কাজের জন্য ১০% টাকা কমিশন হিসেবে প্রদান করতে হয়। যেহেতু বেশিরভাগ কাজ ঘন্টা হিসেবে প্রদান করা হয় তাই অন্য সাইটগুলোর তুলনায় এই সাইট থেকে অনেক বেশি পরিমাণে আয় করা সম্ভব। 

পিপল পার আওয়ার www.peopleperhour.com


পিপল পার আওয়ার বা “পিপিএইচ” (PeoplePerHour.com) হচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রচলিত অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন কাজ আউটসোর্স বা ফ্রীল্যান্সিং করবার জন্য সুযোগ দিয়ে থাকে তাদের মতোই একটি স্কিল বিক্রি করবার মার্কেটপ্লেস।
পিপিএইচ একটি অনলাইন ফ্রীল্যান্স মার্কেট প্লেস,আট দশটি মার্কেট প্লেসের মতো এখানেও কাজের আদান প্রদান হয়,তবে মৌলিক কাঠামো এক হলেও বেশ কিছু ফিচার আছে পিপিএইচের যা কিনা অন্য মার্কেটপ্লেসের থেকে ভিন্ন,একটু আলাদা আর আকর্ষনীয়।

আরেক ভাষায় পিপিএইচ হচ্ছে একটি ক্রাউডসোর্সিং প্লাটফর্ম অর্থাৎ প্রফেশনাল অফিসের সরনাপন্ন না হয়ে যদি কোনো ব্যাবসায়ী বা ক্রেতা সুনির্দিষ্ট কোনো সার্ভিস বা কাজ অনলাইন কমিউনিটি,এই ক্ষেত্রে ফ্রীল্যান্সার বা আউটসোর্সারদের কাছ থেকে নিলাম করে কিনে নেয় তবে তাকে ক্রাউডসোর্স বলা যেতে পারে, যার প্রকৃষ্ট উদাহরন পিপিএইচ।

ফাইবার www.fiverr.com


ফাইভার (www.fiverr.com) হচ্ছে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা (সাধারণত সেলার হিসেবে অভিহিত) তাদের কর্মপরিধি ও দক্ষতা সাপেক্ষে বায়ারদের জন্য উপযোগি সার্ভিসের বিভিন্ন প্যাকেজ তৈরি করে তা বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে বসেন। ফাইভারে এরকরম এক বা একাধিক প্যাকেজ মিলে তৈরি সার্ভিসগুলো গিগ নামে পরিচিত যার মূল্য ৫ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, প্রতি ৫ ডলার মূল্যের গিগ বিক্রিতে ফাইভার সেলারকে ১ ডলার চার্জ করে; অর্থাৎ যেকোনো পরিমান সেলের ২০% কাটা গিয়ে ৮০% রেভিনিউ সেলারের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। যাই হোক, বর্তমানে ফাইভারে বিভিন্ন সার্ভিসের উপর ৩০ লক্ষেরও অধিক গিগ অফার রয়েছে। Shai Wininger  এবং  Micha Kaufman কর্তৃক ২০০৯ সালে ফাইভার প্রতিষ্ঠিত হয়, যার হেডকোয়ার্টার ইসরাইলের তেল-আবিব এ অবস্থিত। 

গুরু www.guru.com


গুরু (www.guru.com) জনপ্রিয় একটি ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস যেখানে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এসইও, এফিলিয়েট মার্কেটিং, এন্ড্রয়েড এপস ডেভলাপমেন্ট, সফ্টওয়্যার ডেভলাপমেন্ট, আর্টিকেল রাইটিং সহ আরও অনেক ধরনের ফ্রিল্যান্স কাজ পাওয়া যায়।

জুমল্যান্সার www.joomlancers.com


এই সাইটে শুধুমাত্র Joomla এর কাজ পাওয়া যায়। Joomla হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। যারা Joomla তে পারদর্শী তারা এই সাইটে বিড করে দেখতে পারেন। এখানে প্রায় ৫৫০০ ফ্রিল্যান্সার রেজিস্ট্রেশন করেছে আর প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টি কাজ পাওয়া যায়। এই সাইটে কমিশন হিসেবে প্রতিটি কাজের ১০% টাকা কোডারকে পরিশোধ করতে হবে। এই সাইটেও আপনি গোল্ড মেম্বার হতে পারবেন। গোল্ড মেম্বার হতে হলে আপনাকে প্রতি মাসে ৫০ ডলার প্রদান করতে হবে।