ব্লগিং নিয়ে না জানা লোকের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম (আমার মনে হয়)। তবে যারা
জানে না বা ভুল জানে তাদের জন্য আমার এই লেখা। উন্নত দেশগুলোতে ব্লগিং খুব জনপ্রিয়
একটা পেশা। প্রায় সব শ্রেণীর পেশার মানুষ উন্নত দেশগুলোতে ব্লগিং এর সাথে জড়িত। তারা
ব্লগিং করে নেশায় (যারা পার্ট টাইম ইনকাম করে বা ফ্রিতে ব্লগিং করে) আবার কেউ প্রধান
ইনকাম সোর্স হিসেবে (ইনকাম কীভাবে করে তা অন্য লেখায় জানাবো)। তবে এই ব্লগিং নিয়ে বাংলাদেশে
কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে। অনেকে আবার ব্লগ বা ব্লগিং সম্পর্কে তেমন কিছু জানেও না।
আমি চেষ্টা করবো সবার জন্য ব্লগিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার।
ব্লগিং কি
মূলত ব্লগ (Blog) একটি ইংরেজী শব্দ। যার
আভিধানিক অর্থ হলো ভার্চুয়াল ডায়েরী অথবা ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত দিনলিপি। পক্ষান্তরে
এই ইংরেজি ”Blog” শব্দটি আবার ”Weblog” এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ১৯৯৭ সালে জোম বার্গার নামে
একজন মার্কিন নাগরিক সর্বপ্রথম ”Weblog” শব্দটি উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে, ১৯৯৯ এর এপ্রিল
বা মার্চের দিকে ‘পিটার মেরহোলজ’ তার নিজস্ব ব্লগ পিটার্ম ডট কমে কৌতুক করে
‘weblog’ শব্দটিকে ভাগ করে ‘blog’ বলে সম্বোধন করেন। তারপর থেকে ‘blog’ শব্দটির ব্যাবহার
প্রসার ঘটতে থাকে।
বেশিরভাগ ব্লগই যে কোন একটা নির্দিষ্ট
বিষয় নিয়ে যাবতীয় খবরাখবর প্রকাশ করে থাকে। বাকীগুলো ব্যক্তিগত অনলাইন দিনলীপি। একটি
ব্লগ হলো লেখা, ছবি, অন্য ব্লগ, ওয়েব পৃষ্ঠা, এ বিষয়ের অন্য ওয়েব সাইটের লিংক ইত্যাদির
সমাহার। পাঠকদের মন্তব্য করার সুযোগ দেয়া ব্লগের অন্যতম একটি দিক। প্রায় ব্লগই মূলত
টেক্সট-বেসড বা লেখাভিত্তিক। কিন্তু কিছু ব্লগ আবার শিল্প (আর্ট ব্লগ), ছবি (ফটোব্লগ),
ভিডিও (ভিডিও ব্লগিং), সঙ্গীত (এমপিথ্রিব্লগ) আর অডিও (পোডকাস্টিং) ইত্যাদির উপর গড়ে
উঠে। মাইক্রোব্লগিং-ও আরেক ধরনের ব্লগিং, যেখানে পোস্টের আকার তূলনামূলক ছোট থাকে।
জুন, ২০১৭-এর হিসেবে, ব্লগ খোঁজারু ইঞ্জিন টেকনোরাট্টি প্রায় বাইশ মিলিওনেরও বেশি
ব্লগের হদিশ পেয়েছে
ব্লগার (Blogger) কাকে বলে:
সাধারনত, যিনি ব্লগে পোস্ট করেন তাকে
ব্লগার বলার হয়। ব্লগাররা প্রতিনিয়ত তাদের ওয়েবসাইটে কনটেন্ট যুক্ত করেন আর ব্যবহারকারীরা
সেখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য নেন এবং সেখানে তাদের মন্তব্য বা অভিবাক্তি প্রকাশ
করতে পারেন। এছাড়াও সাম্প্রতিক কালে ব্লগিং, ফ্রিলান্স সাংবাদিকতার একটি অন্যতম মাধ্যম
হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ নিয়ে এক বা একাধিক ব্লগার রা এটি নিয়মিত আপডেট করেন।
অনেকেই ওয়েবসাইট এবং ব্লগ এর পার্থক্য
বোঝেন না। ওয়েব সাইট থেকে ব্লগের মূল পার্থক্য হল ওয়েব সাইট আপডেট করা হয় অনিয়মিত ভাবে
অপর দিকে ব্লগ আপডেট করা হয় নিয়মিত ভাবে। এমনকি কিছু কিছু ব্লগ আছে যেগুলো কিনা প্রতিনিয়ত
আপডেট করা হয় যাতে করে পাঠকগন সক্রিয় থাকার মাধ্যমে অনেক বিষয় সহজেই জানতে পারে।
ব্লগার কারা?
ব্লগার হলো একজন ব্যক্তি যিনি ব্লগে কন্টেন্ট
লিখেন এবং ব্লগ পরিচালনা করেন। অর্থাৎ যিনি ব্লগের জন্য কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লিখেন
তাকেই ব্লগার বলা হয়। আপনিও একজন ব্লগার হতে পারবেন তারজন্য দরকার একটি ব্লগ শুরু করা
এবং ব্লগে লেখা পোস্ট করা।
ব্লগের প্রকারভেদ
ব্লগ সাধারনত দুই ধরনের হয়ে থাকেঃ
ব্যক্তিগত ব্লগ (personal blog)
এই ধরনের ব্লগসমূহ সাধারনত ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয়ে থাকে যেখানে
একজন ব্লগার তার মতামত, ধ্যান-ধারণা এবং তার নিজস্ব লেখা প্রকাশ করে থাকেন। ব্যক্তিগত
ব্লগে এডমিন অন্যকে তার ব্লগে লেখার সুযোগ দিতে পারেন।
সামাজিক ব্লগ (community blog)
এই ধরনের ব্লগসমূহ সাধারনত ব্যক্তিগত উদ্যোগ অথবা একই মতের কয়েকজন
এর উদ্যোগে হয়ে থাকে। এসকল ব্লগ পাবলিক ব্লগ নামেও পরিচিত যেখানে সকলে অংশগ্রহন করতে
পারে এবং সেই ব্লগের নীতিমালা মেনে তাদের নিজস্ব লেখা প্রকাশ করতে পারে। এসকল ব্লগের
লেখাসমুহ বিভিন্ন বিভাগের হয়ে থাকে এবং লেখাগুলোর দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ঐ লেখার
লেখকের হয়ে থাকে।
ব্লগিং যে কারনে করেঃ
আপনি যদি কোন কিছু লিখে গুগলে সার্চ করেন তাহলে ঐ বিষয়ের উপর অনেক লেখা পাবেন
যা পড়ে আপনি উপকৃত হবেন বা অনেক কিছু জানতে পারবেন। এমন ভাবেই ধরুন আপনি কোন বিষয়ে
ভাল জানেন আবার তা অন্য মানুষ জানলে তাদের উপকার হবে তাহলে আপনি ব্লগিং-এর মাধ্যমে
পৃথিবীর মানুষদের জানাতে পারেন আপনার সেই বিষয়ে। এতে করে তারা উপকৃত হবে। আবার অনেক
ব্লগার আছে যারা শুধু তাদের শখের বশে ব্লগিং করে থাকে। তাদের নিজেদের জীবন কাহিনী অন্যের
সাথে শেয়ার করে মজা পায়। যেমন আমি ব্লগিং করতেছি যারা ব্লগিং-এ নতুন তাদের সাহায্য
করার জন্য বা আরও অন্য বিষয়ে জানানোর জন্য। তাই আপনিও শখের বশেই হোক বা অন্যদের কোন
কিছু জানানোর জন্য বা শিখানোর জন্য ব্লগিং করতে পারেন।
অনেকে আছে যারা সামাজিক
সম্মানের জন্য বা যোগাযোগের জন্য ব্লগিং করে। তবে বর্তমানে গুগল আডসেন্সের কারনে ৫০%
ব্লগার তাদের ব্লগ ইনকামের জন্য তৈরি করে। বর্তমানে ব্লগিং এর মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা
সম্ভব, বিশেষ করে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে ব্লগিং করে বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল লিখে
ইনকাম করছে কিন্তু এই আয় এর পিছনে তাদের রয়েছে মহান ইচ্ছাশক্তি এবং পরিশ্রম।
ব্লগিং করে কি লাভ :
আপনি বলতে পারেন ব্লগিং করে কি লাভ? ব্লগিং করলে লাভ তো আছেই কিন্তু এখানে
আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে আপনি বাংলায় ব্লগিং করবেন না ইংরেজীতে। আপনি যদি বাংলায় ব্লগিং
করেন তাহলে লাভ আছে কিন্তু একটু কম। এতে আপনি ভাল একজন লেখক হতে পারেন এবং অনলাইন ভিত্তিক
সাংবাদিকতায় চান্স পেয়ে যেতে পারেন। এছাড়া ভার্চুয়াল জগতে আপনার নাম হবে যা আপনাকে
ফেমাস করে তুলতে পারে। আবার আপনার ব্লগ যদি নামকার হয়ে উঠে তাহলে বিভিন্ন কোম্পানির
( ক্লিকবিডি, এখনি.কম, আজকেরডিল.কম ইত্যাদি) এডস আপনার ব্লগে দিয়ে প্রতিমাসে মোটামুটি
কিছু টাকা আয় করতে পারবেন।
এছারাও বিভিন্ন এডস কোম্পানিতো (গুগল এ্যাডসেন্স, ইনফোলিঙ্কস,
ক্লিকসোর) আছেই। আসলে বাংলা ব্লগের মাধ্যমে আয় করা একটু কঠিন। আর আপনি যদি ইংরেজীতে ব্লগিং করেন তাহলে
ভাল লেখক হওয়া থেকে শুরু করে সুনাম এবং আয়ের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। এখানে আপনি বিভিন্ন
বিষয়ের উপর ব্লগ লিখে বাহারি পনের বিজ্ঞাপন ( অনেক নামকরা ব্লগ ও সনামধন্য হলে) এবং
বিভিন্ন নামকরা অনলাইন এডস কোম্পানির (গুগল এ্যাডসেন্স, ইনফোলিঙ্কস, ক্লিকসোর) পাবলিশের
মাধ্যমে প্রচুর টাকা আয় করতে পারেন। এছারাও আছে এফিলিয়েশনের মাধ্যমে আয় । তবে ইংরেজী
ব্লগিং থেকে আয় করতে হলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতার দরকার হবে কারন বর্তমানে অনেক অনেক ইংরেজী
ব্লগ আছে অনলাইনে। তাছাড়া অনলাইনের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে মানুষ ব্লগিং এ খুব বেশি ঝুকে
পড়ছে।
ব্লগিং শুরু করার কিছু সাধারণ কারণ:
·
আপনি
ব্লগিং করার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। বর্তমানে অনেকেই ব্লগিংকে তাদের পেশা হিসেবে বেছে
নিচ্ছে এবং সফলতাও পাচ্ছে।
·
অডিয়েন্ট
বা ভিজিটরদের অনুপ্রাণিত করতে। আপনার প্রকাশিত আর্টিকেল পড়ে অনেকেই উপকৃত হবে।
·
জনপ্রিয়তা
পেতে বা নিজেকে ব্রান্ড হিসেবে উপস্থাপন করতে ব্লগিং একটি অনত্যম মাধ্যম। যেখানে আপনি
আপনার দক্ষতার পরিচয়ে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হতে পারবেন।
·
ব্লগাররা
কন্টেন্ট লিখার জন্য অনেক রিসার্স করে থাকে যার ফলে তার চিন্তাধারার উন্নত হয় এবং অনেক
ধারণা পাবেন যা আপনার জীবনকে বদলে দেবে।
·
ব্লগাররা
একটি সম্প্রদায় এবং অন্যদের ব্লগারের ধারণা, গল্প এবং অভিজ্ঞতার সাথে যোগাযোগ করার
জন্য একটি জায়গা তৈরি করতে পারে।
·
ব্লগিং
শুরু করা একজন ব্লগারকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশ করে।
ব্লগিং শুরু করার ধাপ
সমূহ?
1 .
একটি
ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম/ বিষয়বস্তু বেছে নিন
2 .
একটি
ডোমেন নাম এবং ওয়েব হোস্টিং নির্ধারণ করুন
3 .
ওয়ার্ডপ্রেস
ইনস্টল করুন
4 .
ওয়ার্ডপ্রেস
থিম পছন্দ করুন এবং ব্লগ ডিজাইন করুন
5 .
প্রয়োজনীয়
ব্লগিং প্লাগইন ইনস্টল করুন
6 .
আপনার
ব্লগ চালু করুন
7 .
আপনার
ব্লগ প্রচার করুন
8 .
ব্লগটিকে
গুগল এডসেন্স এর জন্য মনিটাইজ করুন
ব্লগার হিসেবে জনপ্রিয়তার বুলেটপ্রুফ কিছু টিপস
১. ব্লগ লিখতে অবশ্যই সর্বজনবোধ্য ভাষারীতি ব্যবহার করতে হবে।
২. ব্লগিং এর মাধ্যমে অবশ্যই আত্মঘাতী কোন লেখা প্রকাশ করা উচিত
নয়।
৩. কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন লেখা প্রকাশ করা ঠিক নয়
এতে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে।
৪. কোন টিপস লিখার আগে অবশ্যই নিজে চেষ্টা করে দেখতে হবে টিপসটি
কার্যকরী কিনা।
৫. টিঊটোরিয়াল লিখার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সম্ভব হলে সচিত্র
টিউটোরিয়াল লিখুন।
৬. ব্লগে লিখার সময় কপি/পেস্ট পদ্ধতি আপনার জনপ্রিয়তার পথে বাধা
হতে পারে তাই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং যদি প্রকাশ করেন তবে অবশ্যই সে লেখাটির
যথাযথ রেফারেন্স পোস্টের সাথে সংযুক্ত করুন।
৭. অন্যের লেখা চুরি করা বা নিজের নামে চালিয়ে দেয়াটা কোন বুদ্ধিমান
ব্লগার ভাইয়ের কাজ হতে পারেনা। আর একজন চোরকে পাঠক সমাজ কখনোই ব্লগার হিসেবে মেনে নেবেন
না। তাই ব্লগ ভর্তি করার জন্য বা পেজ ভিউ বাড়ানোর জন্য ভুলেও অন্যের লেখা চুরি করবেননা।
অন্যের লেখা চুরিকে সাধারনত প্লাগিরিজম ( plagirism ) নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। তবে
সম্ভব হলে অন্যের লেখা অনুমতি সাপেক্ষে শেয়ার অথবা রেফারেন্স উল্লেখ করে আপনার ব্লগে
যুক্ত করতে পারেন।
৮. প্রতিদিন ব্লগে নিত্যনতুন প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করুন এতে আপনার
ব্লগ এবং ব্লগার হিসেবে আপনিও দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করবেন।
জেনে নিন ব্লগিং থেকে আয় করার ৫ টি ধাপ:
কিভাবে ব্লগিং শুরু করার পর সেখান থেকে
আয় করবেন সেটা নিয়ে অনেকেরই মনে নানার ধরনের প্রশ্ন আছে। আশাকরি নিচের লেখাগুলো পড়লে
এই বিষয়ে অনেকটা ধারনা পাবেন।
প্রথমত,
সঠিক ডোমেইন নাম নির্বাচন করা
একটি
ব্লগ সাইট তৈরি করার শুরুতে প্রথম কাজটি হলো, একটি ব্রান্ডেবল, উচ্চারনে সহজ ও শ্রুতিমধুর
এবং সবার মনে থাকবে, এমন একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করতে হবে। এতে করে ব্লগ সাইটটি
দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং ভিজিটর বা পাঠক তত বৃদ্ধি পাবে।
দ্বিতীয়ত,
ভালো মানের হোস্টিং সার্ভিস ব্যবহার করা
ডোমেইন
নাম নির্বাচন করার পর একটি ভালো মানের হোস্টিং সার্ভিস ক্রয় করতে হবে। হোস্টিং সার্ভিস
ক্রয় করার আগে অবশ্যই তাদের কাস্টমার রিভিউ এবং কেনার পরবর্তী সাপোর্ট সার্ভিস কেমন
সেটা জেনে তারপর কিনবেন।
তৃতীয়ত,
ব্লগ ডিজাইন করা
ডোমেইন ও হোস্টিং নেওয়ার পর এখন ব্লগটি
ডিজাইন করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রথমে হোস্টিং সিপ্যানেলে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে
হবে। তারপর একটি থিম ইনস্টল করে প্রয়োজনীয় কাস্টমাইজ করে পছন্দমতো ডিজাইন করতে হবে।
কিভাবে থিম কাস্টমাইজ করবেন সে বিষয়ে ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন। সেগুলো দেখে আপনি নিজেই
ব্লগটি ডিজাইন করতে পারবেন। আর আপনি যদি নিজে না করতে পারের তাহলে যে কোন ওয়েব ডিজাইনার
অথবা ওয়েব ডেভেলপার এজেন্সি কে দিয়ে আপনার ব্লগ সাইটি ডিজাইন করে নিতে পারেন।
চতুর্থ,
কন্টেন্ট লেখা, পাবলিশিং এবং মার্কেটিং করা
ব্লগটি ডিজাইন করার পর একটি নির্দিষ্ট
বিষয় এর উপর কন্টেন্ট লিখে সেগুলো উক্ত ব্লগে পাবলিশ করতে হবে। কন্টেন্ট লিখার ক্ষেত্রে
অবশ্যই তথ্যবহুল এবং সার্বিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। ব্লগে কন্টেন্ট পাবলিশ করার পর
সেগুলো বিভিন্ন সোসাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে হবে। এজন্য আগে থেকেই সেই ব্লগের নামে সকল
পপুলার সোসাল মিডিয়া সাইট (Facebook, Twitter, Instagram, Pinterest, Quora ইত্যাদি)
গুলোতে বিজনেস পেজ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
ফাইনালি,
ব্লগে অ্যাডসেন্স বা স্পনসরসিপ যুক্ত করা
উপরের ৪ টি ধাপ সম্পন্ন করার পর
যখন আপনার ব্লগে অধিক সংখ্যাক ভিজিটর বা পাঠক আসা শুরু হবে। তখন আপনি গুগল ও অন্যান্য
কোম্পানি থেকে অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করবেন। তারপর সেটা আপনার ব্লগ সাইটের সাথে
কানেক্ট করে সেখান থেকে নিদির্ষ্ট পরিমাণ রিভিনিউ প্রতি মাসে আয় করতে পারবেন।
পাশাপাশি,
যখন এটি আরও পপুলার হবে তখন অনেক কোম্পানি আপনার ব্লগ সাইটে স্পনসর করার জন্য যোগাযোগ
করবে। উদাহরনস্বরুপ বলা যায় বাংলাদেশের প্রথম ব্লগ সাইট সামহোয়্যারইনব্লগ এর
কথা।
প্রয়োজনীয় ব্লগিং
প্লাগইন ইনস্টল করুনঃ
যেহেতু আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগ শুরু
করবেন তাহলে আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্লাগইন ইনস্টল করতে হবে। প্লাগইন হলো একটি সফ্টওয়্যার
যা আপনার ওয়েবসাইটের বাড়তি ফাংশন বা ফিচার যুক্ত করে যার ফলে আপনার কাজ আরো সহজ হয়ে
যায়। মনে রাখবেন বেশি প্লাগইন ইনস্টল করলে আপনার সাইট এর স্পিড পারফরম্যান্স কমে যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন:
এগুলো প্রায় প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটেই থাকে
তাছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্লাগইন রয়েছে যেগুলো প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারবেন।
আপনার ব্লগ/Blog প্রচার
করুনঃ
ব্লগ প্রচার করার জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে
সোশ্যাল মিডিয়া যেমন: ফেসবুক, টুইটার, লিনকডিন, বিভিন্ন ফোরাম ইত্যাদি। নতুন ব্লগ
শুরু করার সাথে সাথেই ভিজিটর বেশি পাবেন না যার ফলে আপনাকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে
একটিভ থাকতে হবে।
যখন আপনার ডোমেন অথরিটি ও পেইজ অথরিটি
বেড়ে যাবে তখন আপনার আর্টিকেল গুগলের প্রথম পেইজে থাকবে এবং অনেক ভিজিটর জেনারেট করতে
পারবেন। তবে ব্লগে বেশি ভিজিটর বৃদ্ধির জন্য ব্লগাররা তাদের কন্টেন্ট সোশ্যাল মিডিয়াতে
শেয়ার করে থাকে।
ব্লগের
মার্কেটিং
উপরের চার ধাপ করলেই যে কাজ শেষ তা কিন্তু নয়। প্রচার পেতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। ব্লগের সঠিক মার্কেটিং করতে হবে।
উপরের চার ধাপ করলেই যে কাজ শেষ তা কিন্তু নয়। প্রচার পেতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। ব্লগের সঠিক মার্কেটিং করতে হবে।
সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)
করতে হবে, যাতে সার্চে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। ব্লগের জন্য যেসব সামাজিক
মাধ্যমগুলোতে অবশ্যই পেইজ বা একাউন্ট করতে হবে সেগুলো হলো-
- ফেসবুক
- গুগল প্লাস
- টুইটার
- স্ট্যাম্বল আপন
- ডিগ
- পিন্টারেস্ট
এ ছাড়া আরও অনেক সামাজিক মাধ্যম
আছে যেগুলোতে ব্লগ আর্টিকেল শেয়ার করতে হবে, যাতে তা পাঠকপ্রিয়তা পায়। প্রচার না
হলে কিংবা ব্লগের আর্টিকেল বেশি ভিউ না হলে এ থেকে আয় আসবে না।
সেজন্য শুধু গুণগত মানের লেখা হলেই
চলবে না, তা যাতে সকলের দৃষ্টিতে পড়ে সেজন্য মার্কেটিংয়ের দিকেও খেয়াল রাখতে
হবে।
পরিশেষে
উপরের পোস্টি পরার পর, আশাকরি ব্লগিং কি ? কিভাবে ব্লগিং শুরু
করার পর সেখান থেকে আয় করবেন সে সম্পর্কে একটু হলেও জানতে পেরেছেন। এছাড়া এ সম্পর্কে
আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আমরা গুরুত্ব
সহকারে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। আপনার ব্লগিং এর জন্য অগ্রিম শুভ
কামনা রইলো।

0 মন্তব্যসমূহ