বর্তমান বিশ্বে আপনাকে টিকে থাকতে হলে প্রতিযোগিতার
সর্বোচ্চ সাধ্য দিয়েই চেষ্টা করতে হবে। কীভাবে আপনি নিজেকে সফল করবেন এবং আপনাকে সফলতার
যায়গায় দেখবেন, তার জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। এগুলো মেনে চললে আপনি নিজেকে আপনার কাক্সিক্ষত
জায়গায় দেখতে পাবেন।
লক্ষ্য নির্ধারণ করুন : স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
যা আপনার ক্যারিয়ারকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
নিজের কাজগুলো পর্যালোচনা করুন, আপনি যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবেই আপনার
লক্ষ্যের দিকে আপনি এগোতে সক্ষম হচ্ছেন তো? যেভাবে চাচ্ছিলেন সেভাবে হচ্ছে না, তবে
কোন কোন সমস্যার কারণে পিছিয়ে পড়ছেন খুঁজে বের করুন এবং সমাধান করার চেষ্টা করুন।
নিজেকে সামনে উপস্থাপন করুন : আপনি যদি শারীরিক অথবা মানসিকভাবে কিছুটা
বিপর্যস্ত হয়েও থাকেন, চেষ্টা করুন সেই সমস্যাগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে আপনার
ক্যারিয়ার এবং কাজের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করতে। চেষ্টা করুন ক্যারিয়ারের প্রতি
ফোকাসড হতে।
যত পারেন নিজের দক্ষতা বাড়ান : নিজের দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
বর্তমান সময়ে অন্যরাও কিন্তু নিজের দক্ষতা ও কোয়ালিটি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
খুব প্রাসংঙ্গিক একটা টপিক নিয়ে আজকের আর্টিকেল “অনলাইনে
ক্যারিয়ার
গঠনের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো কি কি“। আমরা সব সময় অযুহাত দিয়ে যে কোন
ব্যাপার এড়িয়ে যেতে পছন্দ করি, এটাই হয়তো মানব জাতীর একটা প্রাকৃতিক সমস্যা।
এই সমস্যা কেবল আমাদের
দেশের মানুষের না, পৃথিবীর সব দেশের মানুষের মাঝেই এই অযুহাত দেওয়ার প্রবণতা
রয়েছে। তবে আমাদের দেশের মানুষের হয়তো একটু বেশিই রয়েছে।
অনলাইনে ক্যারিয়ার গঠন করার ক্ষেত্রে কিছু কমন সমস্যা নামক অযুহাত নিয়ে আজকে
আমি বিস্তারিত বকবক করব। আর্টিকেলের পুরোটা পড়লে কিছুটা হলেও বেনিফিট পাবেন, যদি
আপনি অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে চান।
অনলাইনে ক্যারিয়ার গঠন করার ক্ষেত্রে
সমস্যা নামক এই অযুহাতগুলোকে আমি প্রথমে পয়েন্টআউট করে নেই –
1.
টাকার অভাবে ইনভেস্ট করতে পারছিনা।
2.
কোন প্লাটর্ফম থেকে আয় করতে পারব বুঝতে
না পারা।
3.
কোথা থেকে যে শুরু করবো বুঝতে পারছিনা।
4.
কাজ না জেনেও জানার বান করা।
5.
হঠাৎ অফলাইন থেকে অনলাইনে মুভ করা।
6.
ভাল রিসোর্স খুজে না পাওয়ার মিথ্যা
অযুহাত।
7.
মেন্টর খুঁজে পাইনা তাই কিছু করতে
পারিনা।
8.
বিভিন্ন কোর্স করে কাজ শিখেছি তবুও কাজ
পাচ্ছিনা।
আজকাল অনেক শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা আছে যারা
গতানুগতিক চাকুরী, ব্যবসা ইত্যাদি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে নিজে কিছু করার
স্বপ্ন দেখেন। এরকম স্বপ্ন দেখা মানুষদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেসব নতুন
দিগন্তের সম্ভাবনা দুয়ার খুলেছে তার বিস্তৃতি আসলে অল্প পরিসরে বোঝানো রীতিমতো
অসম্ভব বিষয়।
অনলাইনে ক্যারিয়ার বলতে আমরা যা বুঝি,তা হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপনার কম্পিউটার এর সাহায্যে কোন পার্টটাইম অথবা ফুলটাইম জব অথবা ব্যবসা করা।
অনলাইনে ক্যারিয়ার প্ল্যাটফর্ম বা ক্ষেত্র আসলে অসংখ্য এবং অগণিত। প্রতিদিন নিত্য নতুন আইডিয়া নিয়ে অনেক উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী ছেলেমেয়েরা ও অনলাইনে আসছে এবং নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র উদ্ভাবন করছে।
আজকের আর্টিকেলে আমরা অনলাইন ক্যারিয়ারের সুবিধা ,অসুবিধা এবং ক্ষেত্র সমূহ আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
অনলাইনে ক্যারিয়ারের সুবিধাঃ
অনলাইন ক্যারিয়ারের সুবিধা অনেক,সবচেয়ে বড় কথা আপনি নিজের ঘরে বসে বাহিরের কাজ করবেন তাও টাকার বিনিময়ে, এর চেয়ে বড় সুবিধা আর কি হতে পারে?
অনলাইন ক্যারিয়ারের আরো কয়েকটি সুবিধা নীচে দেওয়া হলো-
১. নিজের ইচ্ছামতো সময়ে কাজ করার স্বাধীনতা আপনি কেবল অনলাইনেই পাবেন।
২. কোথায় বসে কাজ করবেন,কখন কাজ
করবেন,কতক্ষণ কাজ করবেন এসব নির্ধারণ করার ক্ষমতা আপনার হাতেই থাকবে।
৩. কোন কাজ করবেন,কিভাবে কাজ করবেন সম্পূর্ণ আপনার হাতে থাকে।
৪. একই প্রতিষ্ঠান এর হয়ে কাজ না করে একের অধিক প্রতিষ্ঠান এর হয়ে কাজ করতে পারবেন এবং নিজের ইচ্ছামতো কাজের রেট ও ফিক্স করতে পারবেন।
৫. যেহেতু অনলাইনের বেশির ভাগ কাজই প্রজেক্ট ভিত্তিক,তাই অল্প সময়ে অধিক টাকা উপার্জনের উপায় আপনি অনলাইন জবেই পাবেন।
৬. সর্বোপরি যেহেতু দলীয় ভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে তাই দেশী-বিদেশী বিভিন্ন দলগত একটা সুন্দর সম্পর্ক মেইনটেইন করার সুযোগ ও আপনি এ সেক্টর থেকেই পাবেন।
অনলাইনে ক্যারিয়ারের অসুবিধাঃ
অনলাইন ক্যারিয়ারের অসুবিধার মধ্যে স্বাস্থ্য গত ঝুঁকিটাই বেশী। যাই হোক,চলুন অনলাইন কাজের কিছু অসুবিধা দেখে নেই।
১. অনলাইন ক্যারিয়ারের প্রথম অসুবিধা হলো অনেকেই বুঝতেই পারেনা অনলাইন ক্যারিয়ারের এত সেক্টর থেকে কোনটা বেছে নিবে। এবং এই না বুঝেই যে কোন কাজ সিলেক্ট করার কারনে অনেকেই মাঝ পথে যেয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং হতাশায় ভুগে।
২. অনলাইনে কাজ করার কারনে দিন-রাত সবসময় নিজের ঘরে নিজের কম্পিউটারে সামনেই বসে থাকতে হয়, যার কারনে নিজের ঘরে থেকেও পরিবার আত্নীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরা, সোশ্যাল কোন প্রোগ্রামে উপস্থিত না হয়ে ধীরে ধীরে অসামাজিক খেতাব ধারণ করা ইত্যাদি।
৩. জব সিকিউরিটি নামক কোন নিশ্চয়তা অনলাইনে আসলে তেমন থাকে না। গতানুগতিক চাকরির ক্ষেত্রে সারা মাস আর যাই হোক অন্তত মাস শেষে একটা ফিক্সড স্যালারি পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু অনলাইন ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে এমন কোন সুযোগ আসলে খুব কম থাকে।
৪. সারা রাত জেগে কাজ করার কারনে ইনসোমনিয়া, মুটিয়ে যাওয়া, স্ট্রেস ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি রোগ অনলাইন কর্মীদের অনেক বেশী হয়।
৫. দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে কাজ করার ফলে চোখের এবং কোমরের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া ঘর থেকে কম বের হওয়ার কারনে শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব ও হতে পারে।
হয়তো কয়েক দিন পর আবার
নিজের মনবল ঠিক করে আবার শুরু করেছে সব কিছু। যদি লেগে না থেকে আবার ছেড়ে দিয়ে থাকেন,
বোকামি করবেন। আমাদের এই পৃথিবীতে সবচেয়ে জ্ঞানী বলে মানে আইনস্টাইনকে। তো তিনি বলেছেন
তিনি খুব তীক্ষ্ণধী নন, তবে একটি সমস্যা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লেগে থাকতে পারেন। বুদ্ধি থেকে
আগ্রহ বেশি গুরুত্ত্বপূর্ণ। বুদ্ধি থেকে লেগে থাকা বেশি গুরুত্ত্বপূর্ণ।
কোনটা শিখলে বেশি আয় করা যাবে, এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে প্রশ্ন
করুণ কোনটা আমার ভালো লাগবে। কোনটা আমি সহজেই বুঝতে পারি। দরকার হলে একটু রিসার্চ মিসার্চ
করুন। ঘাটা ঘাটি করুণ। একটু সময় ব্যয় করুণ নিজের পছন্দের বিষয় খোঁজার জন্য। পেয়ে গেলে
লেগে পড়ুন, শেখার জন্য, কাজ করার জন্য এবং পৃথিবীকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য, আমিও পারি।
যদি এমন বিষয় আপনি শিখলেন, যা আপনার ভালো লাগে না, একদিন হয়তো ঠিকই আয় করতে পারবেন,
তবে বোরিং লাগবে। বার বার মনে হবে ছেড়ে দি। তো ভবিষৎ এর চিন্তা করে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত
নিন। কিভাবে বেশি আয় করা যাবে এ প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে শিখতে থাকুন। আয় নিয়ে একটুও
চিন্তা করতে হবে না। আপনি যতটুকু আয় করার আশা করেন, তার থেকেও বেশি করতে পারবেন।

0 মন্তব্যসমূহ